ঢাকায় অন্তত ৩০০ ভবন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজউক চেয়ারম্যান
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ঢাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০ ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
সোমবার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইইবি) রাজউক আয়োজিত 'ভূমিকম্প ঝুঁকি হ্রাসে প্রস্তুতি ও করণীয়' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
রিয়াজুল বলেন, 'শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করতে পেরেছি। নিয়ম ভেঙে এবং অনুমোদিত নকশা না মেনে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক ও ভবন মালিক উভয়েরই দায়িত্ব আছে। তবে প্রধান দায়িত্ব ভবন মালিকদের ওপরেই বর্তায়।'
তিনি বলেন, 'আমরা নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিই। রাজউকে টাকার বিনিময়ে কোনো কাজ হয় না।'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'রাজউক নিজে ভবনের নকশা ডিজাইন করে না। বাড়ির মালিকরা ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্ট দিয়ে নকশা করান এবং রাজউকের নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই নকশা জমা দেন। পরে যদি তারা নিয়ম ভাঙেন, তাহলে শাস্তি বা জরিমানা ভবন মালিকদেরই প্রাপ্য। এজন্য রাজউককে দায়ী করা যায় না।'
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জরুরি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, 'বড় ধরনের ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু রাজউক নয়—সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।'
গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, 'সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা ছাড়া ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানো যাবে না। জননিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি চলতে পারে না।'
বুয়েটের ভূমিকম্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী ও ড. তানভীর মঞ্জুর তাদের গবেষণাপত্রে ঢাকার দুর্বল মাটি, নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজ, ভবন কোড মানায় ব্যর্থতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়গুলো তুলে ধরে সতর্ক করেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: