বিদেশিদের হাতে বন্দর ও রোহিঙ্গাদের স্থায়ীত্বের প্রতিবাদে মুক্তিজোট
বিদেশিদের হাতে দেশের বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব ও রোহিঙ্গাদের স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির অনুমোদনের প্রতিবাদ মুক্তিজোটের।
চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প এবং ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানর হাতে আগামী ১০ বছর ১০০ শতাংশ করমুক্ত সুবিধাসহ চুক্তি এবং বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার ফলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করে মুক্তিজোট।
২০শে নভেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল যৌথ বিবৃতিতে আরও বলেন জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী এসকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। সরকারকে তাঁরা বলেন আপনাদের যদি মনে হয় আমরা বন্দর চালাতে পারছি না বা দক্ষ না তাহলে দক্ষ হওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা করেন।
আমাদের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাণিজ্যিক প্রবাহই নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এমন কৌশলগত স্থাপনার বিষয়ে তড়িঘড়ি করে গোপন বা অস্বচ্ছ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই এবং রহিঙ্গা প্রসঙ্গের সাথে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। অন্তর্বর্তী সরকারের এমন কর্মকাণ্ড বিগত ফ্যসিস্ট সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। দেশের জনগণ তথা ছাত্র-জনতার গণঅভূত্থানের জন–আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যেকোনো কার্যক্রম জনরোষের মাত্রা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করবে।
তাই তারা বলেন দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশবিরোধী চুক্তি বাস্তবায়ন তথা বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত এবং রহিঙ্গাদের স্থায়ী অবকাঠামো স্থাপনের নৈতিক অনুমোদনের সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। অন্যথায় দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ বিক্রির চুক্তির বিরুদ্ধে গণ–আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তাঁরা সরকারকে সতর্ক করে আরও বলেন, গোপন সমঝোতা বা দরপত্রবিহীন অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হবে, যার দায় পুরোপুরি এ সরকারের ওপর বর্তাবে।
প্রসঙ্গতঃ সম্প্রতি দুইটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগামী ১০ বছর ১০০ শতাংশ করমুক্ত সুবিধাসহ চুক্তি সই করেছে সরকার। চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালে কাজ করবে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ। চুক্তি অনুসারে, লালদিয়া টার্মিনালে ত্রিশ বছর এবং পানগাঁওয়ে বাইশ বছর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ১৮ নভেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: