newsbhuban25@gmail.com সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বুয়েট আমার কাছে না পাওয়া এক প্রেমিকার মতো

নিউজ ভুবন ডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১১ পিএম

ডা. অন্তর সাহা

ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—তিনটিতেই ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন ডা. অন্তর সাহা। তাঁর কথা অনুপ্রাণিত করেছে শিক্ষার্থীদের। পড়ুন তাঁর কথামালা।

এইচএসসি পরীক্ষায় যাঁরা জিপিএ–৫ পেয়েছেন, মূলত তাঁদের নিয়েই এ আয়োজন। ঢাকা অঞ্চলের উৎসবটি হয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডমে, গত ১৯ নভেম্বর।

স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি ডাক্তার হব। ছোটবেলায় প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানী, পরে প্রকৌশলী হতে চেয়েছি। আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ছিল বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়)। বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো! প্রতিদিন যখন সামনে দিয়ে যাই, মাঝেমধ্যেই হার্টবিট মিস হয়। জীবনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, তা হলো, ‘আমি কেন ডাক্তার হলাম?’ উত্তর একটাই—মা-বাবা চেয়েছেন তাই। আমি মূলত প্রকৌশলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরে একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যাই।

মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর মনে হতো এত বিদঘুটে পড়াশোনা কীভাবে মনে রাখব। এত পড়া আমাকে দিয়ে হবে না। পাসটা করে নিই, এরপরই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। ভেবেছিলাম, বিসিএস দিয়ে ক্যাডার চেঞ্জ করে ফেলব। পরে বিসিএস জটের কারণে এফসিপিএস পরীক্ষা দিই। পার্ট ওয়ান পাসও করে ফেলি। পরে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পাই। শেষমেশ যেটা বুঝলাম, ডাক্তারি থেকে আমার মুক্তি নেই! সৃষ্টিকর্তা আমাকে ডাক্তার হিসেবেই দেখতে চান। শুধু তা–ই নয়, মেডিকেলের জন্য আমি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছি, যাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখন বিভিন্ন মেডিকেলে পড়াশোনা করছে এবং অনেকে ডাক্তার হয়ে গেছে।

তোমরা যারা জিপিএ–৫ পেয়েছ, জেনে রেখো, এটাই তোমাদের সাফল্যের শেষ নয়, বরং একটি নতুন শুরু। আমি পাঁচটি পয়েন্ট বলব, যেগুলো শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফলই নয়, তোমাদের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

*লক্ষ্য পরিষ্কার করো। যদি তোমার লক্ষ্য পরিষ্কার না হয়, তাহলে পথ কখনো পরিষ্কার হবে না। ঠিক করো তুমি কোন জীবন চাও।
*নিয়মিত পড়ো। অল্প পড়লেও প্রতিদিন পড়ো। ধারাবাহিকতা সেই শক্তি, যা প্রতিভাকেও হার মানায়।
* সঠিক রিসোর্স বেছে নাও। বই-প্রশ্নব্যাংক-গাইড—সবকিছু বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করো। ভুল রিসোর্স সঠিক মেধাকেও থামিয়ে দিতে পারে।
*মানসিক শক্তি ধরে রাখো। চাপ আসবে, ভয় আসবে। কিন্তু মনে রাখবে, জেতার আগে হার মানা যাবে না। তোমার বিশ্বাসই তোমার শক্তি।
*সময়ের মূল্য বুঝো। তোমরা এখন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ে আছ। এক ঘণ্টা নষ্ট মানে এক ধাপ পিছিয়ে পড়া।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তোমার স্বাস্থ্য। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেই দেখবে আজ ঢাকা, কাল খুলনা, পরের দিন চট্টগ্রামে পরীক্ষা হচ্ছে। শরীর ও মনের জোর না থাকলে এত পরীক্ষা দিয়ে ভালো করা সত্যিই কঠিন। বর্তমানে ভাইরাল জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। সব সময় মাস্ক ব্যবহার করবে, মশা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, পুষ্টিকর খাবার খাবে, পর্যাপ্ত পানি পান করবে।

যেকোনো যুদ্ধ জেতার সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে প্রতিপক্ষকে জানা। এ ক্ষেত্রে তোমার প্রতিপক্ষ কিন্তু তোমার বন্ধুরা নয়, প্রতিপক্ষ হচ্ছে সেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো। একটা ভালো প্রশ্ন ব্যাংক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। তাহলে সবচেয়ে কম সময়ে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারবে। পড়াশোনা তো সবাই করবে, কিন্তু তোমাকে একটু কৌশলী হতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় যখনই আমার খারাপ লাগত, একটা ডায়েরি হাতে নিতাম। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ামাত্রই কী করব, কোথায় ঘুরতে যাব—এগুলো লিখতাম। মনকে এভাবে সান্ত্বনা দিতাম—আর মাত্র কয়েকটা দিন। এরপরই ‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন, ঝরনার সাথে গান হবে একদিন।’

ধরো, তুমি মেডিকেলে পড়বে, এ জন্য কি শুধু মেডিকেলের ফরম তুললেই হবে? মোটেই না। তুমি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলবে, যেগুলোর সঙ্গে মেডিকেলের প্রশ্ন পদ্ধতির মিল আছে। এতে অনেকগুলো অপশন তৈরি হবে এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার দিন দেখবে নিজেকে অনেকটাই নির্ভার লাগছে। আমি নিজে ১৬টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলেছিলাম।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্প মাথায় রাখতে পারো:

১. মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

২. ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিট।

এতে তোমার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এত কিছুর পরও যদি চান্স না-ই পাই, তাহলে কি হেরে যাব? আমার পরিচিত অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার পরও দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করেছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তোমাকে শুধু খুঁজে নিতে হবে, তোমার মেধা কোথায় লুকিয়ে আছে।

আমরা যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি, তাদের জীবনপথ অনেকটা নির্ধারণ হয়ে গেছে। আমাদের এই জীবনে হয়তো চাইলেও অনেক বেশি কিছু করে ফেলার সুযোগ এখন আর নেই। কিন্তু তোমরা জানো না, তোমাদের সামনে কত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। হয়তো একদিন তোমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই আমার কয়েক দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখতে হবে। তোমাকে শুধু পরিশ্রম করে সেই জায়গাটায় একবার পৌঁছাতে হবে, সেই বিশ্বাসটা মনে ধরে রাখো।

এ কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি তোমার কাছে তোমার মা-বাবার সমর্থন থাকে, তাহলে তুমি এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষগুলোর একজন। অভিভাবক, যাঁরা আমার কথা শুনছেন, তাঁরা অবশ্যই সফলতা ও ব্যর্থতায় আপনার ছেলেমেয়ের পাশে থাকবেন। আপনার একটি ইতিবাচক কথাও আপনার ছেলেমেয়েকে বিশ্বসেরা বানাতে পারে।

ধরো, পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলে। এরপর যে বন্ধুটি সুযোগ পায়নি, তার পাশে থাকার দায়িত্ব কিন্তু তোমার। সে হয়তো সংকোচে তোমার কাছে আসবে না, তোমাকেই এগিয়ে যেতে হবে সেই বন্ধুর কাছে। তোমার একটি কথাও তার মনে যেন আঘাত না দেয়, এটা তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে। দেখবে কদিন পরই কে কত ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেল, এ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। তুমি সব সময় নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবে, তবে অহংকার নিয়ে নয়। নিজের প্রতিষ্ঠানকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবে, সেটা তুমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে, যে বিষয়েই পড়ো না কেন।

তোমার আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রমের মাধ্যমেই তুমি জয় করে ফেলতে পারো যেকোনো বাধা। তোমাদের সবার জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে দোয়া ও শুভকামনা রইল।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


বুয়েট আমার কাছে না পাওয়া এক প্রেমিকার মতো

নিউজ ভুবন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১১ পিএম

ডা. অন্তর সাহা

ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—তিনটিতেই ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন ডা. অন্তর সাহা। তাঁর কথা অনুপ্রাণিত করেছে শিক্ষার্থীদের। পড়ুন তাঁর কথামালা।

এইচএসসি পরীক্ষায় যাঁরা জিপিএ–৫ পেয়েছেন, মূলত তাঁদের নিয়েই এ আয়োজন। ঢাকা অঞ্চলের উৎসবটি হয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডমে, গত ১৯ নভেম্বর।

স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি ডাক্তার হব। ছোটবেলায় প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানী, পরে প্রকৌশলী হতে চেয়েছি। আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ছিল বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়)। বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো! প্রতিদিন যখন সামনে দিয়ে যাই, মাঝেমধ্যেই হার্টবিট মিস হয়। জীবনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, তা হলো, ‘আমি কেন ডাক্তার হলাম?’ উত্তর একটাই—মা-বাবা চেয়েছেন তাই। আমি মূলত প্রকৌশলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরে একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যাই।

মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর মনে হতো এত বিদঘুটে পড়াশোনা কীভাবে মনে রাখব। এত পড়া আমাকে দিয়ে হবে না। পাসটা করে নিই, এরপরই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। ভেবেছিলাম, বিসিএস দিয়ে ক্যাডার চেঞ্জ করে ফেলব। পরে বিসিএস জটের কারণে এফসিপিএস পরীক্ষা দিই। পার্ট ওয়ান পাসও করে ফেলি। পরে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পাই। শেষমেশ যেটা বুঝলাম, ডাক্তারি থেকে আমার মুক্তি নেই! সৃষ্টিকর্তা আমাকে ডাক্তার হিসেবেই দেখতে চান। শুধু তা–ই নয়, মেডিকেলের জন্য আমি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছি, যাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখন বিভিন্ন মেডিকেলে পড়াশোনা করছে এবং অনেকে ডাক্তার হয়ে গেছে।

তোমরা যারা জিপিএ–৫ পেয়েছ, জেনে রেখো, এটাই তোমাদের সাফল্যের শেষ নয়, বরং একটি নতুন শুরু। আমি পাঁচটি পয়েন্ট বলব, যেগুলো শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফলই নয়, তোমাদের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

*লক্ষ্য পরিষ্কার করো। যদি তোমার লক্ষ্য পরিষ্কার না হয়, তাহলে পথ কখনো পরিষ্কার হবে না। ঠিক করো তুমি কোন জীবন চাও।
*নিয়মিত পড়ো। অল্প পড়লেও প্রতিদিন পড়ো। ধারাবাহিকতা সেই শক্তি, যা প্রতিভাকেও হার মানায়।
* সঠিক রিসোর্স বেছে নাও। বই-প্রশ্নব্যাংক-গাইড—সবকিছু বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করো। ভুল রিসোর্স সঠিক মেধাকেও থামিয়ে দিতে পারে।
*মানসিক শক্তি ধরে রাখো। চাপ আসবে, ভয় আসবে। কিন্তু মনে রাখবে, জেতার আগে হার মানা যাবে না। তোমার বিশ্বাসই তোমার শক্তি।
*সময়ের মূল্য বুঝো। তোমরা এখন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ে আছ। এক ঘণ্টা নষ্ট মানে এক ধাপ পিছিয়ে পড়া।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তোমার স্বাস্থ্য। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেই দেখবে আজ ঢাকা, কাল খুলনা, পরের দিন চট্টগ্রামে পরীক্ষা হচ্ছে। শরীর ও মনের জোর না থাকলে এত পরীক্ষা দিয়ে ভালো করা সত্যিই কঠিন। বর্তমানে ভাইরাল জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। সব সময় মাস্ক ব্যবহার করবে, মশা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, পুষ্টিকর খাবার খাবে, পর্যাপ্ত পানি পান করবে।

যেকোনো যুদ্ধ জেতার সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে প্রতিপক্ষকে জানা। এ ক্ষেত্রে তোমার প্রতিপক্ষ কিন্তু তোমার বন্ধুরা নয়, প্রতিপক্ষ হচ্ছে সেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো। একটা ভালো প্রশ্ন ব্যাংক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। তাহলে সবচেয়ে কম সময়ে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারবে। পড়াশোনা তো সবাই করবে, কিন্তু তোমাকে একটু কৌশলী হতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় যখনই আমার খারাপ লাগত, একটা ডায়েরি হাতে নিতাম। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ামাত্রই কী করব, কোথায় ঘুরতে যাব—এগুলো লিখতাম। মনকে এভাবে সান্ত্বনা দিতাম—আর মাত্র কয়েকটা দিন। এরপরই ‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন, ঝরনার সাথে গান হবে একদিন।’

ধরো, তুমি মেডিকেলে পড়বে, এ জন্য কি শুধু মেডিকেলের ফরম তুললেই হবে? মোটেই না। তুমি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলবে, যেগুলোর সঙ্গে মেডিকেলের প্রশ্ন পদ্ধতির মিল আছে। এতে অনেকগুলো অপশন তৈরি হবে এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার দিন দেখবে নিজেকে অনেকটাই নির্ভার লাগছে। আমি নিজে ১৬টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলেছিলাম।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্প মাথায় রাখতে পারো:

১. মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

২. ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিট।

এতে তোমার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এত কিছুর পরও যদি চান্স না-ই পাই, তাহলে কি হেরে যাব? আমার পরিচিত অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার পরও দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করেছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তোমাকে শুধু খুঁজে নিতে হবে, তোমার মেধা কোথায় লুকিয়ে আছে।

আমরা যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি, তাদের জীবনপথ অনেকটা নির্ধারণ হয়ে গেছে। আমাদের এই জীবনে হয়তো চাইলেও অনেক বেশি কিছু করে ফেলার সুযোগ এখন আর নেই। কিন্তু তোমরা জানো না, তোমাদের সামনে কত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। হয়তো একদিন তোমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই আমার কয়েক দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখতে হবে। তোমাকে শুধু পরিশ্রম করে সেই জায়গাটায় একবার পৌঁছাতে হবে, সেই বিশ্বাসটা মনে ধরে রাখো।

এ কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি তোমার কাছে তোমার মা-বাবার সমর্থন থাকে, তাহলে তুমি এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষগুলোর একজন। অভিভাবক, যাঁরা আমার কথা শুনছেন, তাঁরা অবশ্যই সফলতা ও ব্যর্থতায় আপনার ছেলেমেয়ের পাশে থাকবেন। আপনার একটি ইতিবাচক কথাও আপনার ছেলেমেয়েকে বিশ্বসেরা বানাতে পারে।

ধরো, পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলে। এরপর যে বন্ধুটি সুযোগ পায়নি, তার পাশে থাকার দায়িত্ব কিন্তু তোমার। সে হয়তো সংকোচে তোমার কাছে আসবে না, তোমাকেই এগিয়ে যেতে হবে সেই বন্ধুর কাছে। তোমার একটি কথাও তার মনে যেন আঘাত না দেয়, এটা তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে। দেখবে কদিন পরই কে কত ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেল, এ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। তুমি সব সময় নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবে, তবে অহংকার নিয়ে নয়। নিজের প্রতিষ্ঠানকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবে, সেটা তুমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে, যে বিষয়েই পড়ো না কেন।

তোমার আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রমের মাধ্যমেই তুমি জয় করে ফেলতে পারো যেকোনো বাধা। তোমাদের সবার জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে দোয়া ও শুভকামনা রইল।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর